English / বাংলা
Editorial News 24

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইসলাম অবমাননার বিচারসহ ৯ দফা দাবি হেফাজতের

মহান আল্লাহ, মহানবী (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচারসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর মধ্যকার এক সৌজন্য বৈঠকে এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি লিখিত অভিনন্দনপত্র ও ৯ দফা দাবি তুলে দেন।প্রদত্ত অভিনন্দনপত্রে ফটিকছড়িকে দেশের দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামি সংস্কার ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এতে বলা হয়, বাবুনগর মাদ্রাসাসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে খাঁটি আলেম গঠন, বিশুদ্ধ আকিদা চর্চা এবং সমাজ সংস্কারে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং সাবেক আমির আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অঞ্চলকে সমকালীন ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান মারকাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।অভিনন্দনপত্রে এদেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংযোজন করে জাতীয় রাজনীতিতে যে ইসলামি মূল্যবোধের সূচনা করেছিলেন, তা চিরস্মরণীয়। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলেম-ওলামাদের প্রতি যে আন্তরিক সমমর্মিতা প্রদর্শন করেছিলেন এবং ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের আন্দোলনের সময় যে সমর্থন দিয়েছিলেন, তার জন্য আলেম সমাজ গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।সংগঠনের উত্থাপিত ৯ দফা দাবির প্রথমটিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ধর্ম, মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর অবমাননা বন্ধে জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ শাস্তির আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয় দাবিতে বলা হয়, কোরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বা নীতি প্রণয়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে বিগত ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে দেশজুড়ে ন্যায়বিচার কায়েম করার দাবি জানানো হয়।শিক্ষাসংক্রান্ত দাবিতে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের ডিগ্রির স্বীকৃতি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরির সুযোগ সুগম করতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে সরকারি মাদ্রাসার পাশাপাশি কওমি ডিগ্রির উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।সামাজিক ও ধর্মীয় সুরক্ষার বিষয়ে অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য অঞ্চলে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের অপতৎপরতা বন্ধ করা। রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধে বিগত সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তাদের রাষ্ট্র পুনর্গঠনে অংশীদার করার জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং বিতর্কিত ভারতীয় বক্তা মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়।উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বৈঠক শেষে দেশের কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধন সুদৃঢ় করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইসলাম অবমাননার বিচারসহ ৯ দফা দাবি হেফাজতের
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0