মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারত কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে, সেটি দেশটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম। রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা স্পষ্ট করেন।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারত তাদের আদালতের অনুমোদন নিয়ে শেখ হাসিনাকে পাঠাবে, নাকি বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় নির্বাহী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নয়াদিল্লির। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে ভারতের আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো মন্তব্য নেই। কারণ ভারতীয় আইনের অধীনে কোন প্রক্রিয়ায় একজন আসামিকে হস্তান্তর করা হবে, তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার একান্তই দেশটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোর।চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে গুরুতর অপরাধ ও মানবতাবিরোধী অভিযোগের একাধিক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি ইতোমধ্যে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি।শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রসিকিউটর বলেন, তিনি নিজেই একসময় ডিসেম্বরে ফিরে আসার কথা বলেছিলেন। তবে আদালতের প্রসিকিউশন মনে করে, বিচারের স্বার্থে ভারত সরকারের উচিত ডিসেম্বরের আগেই তাকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া। দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন মামলার প্রধান আসামিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে আইনি নথি তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ভারত তাদের আইনি কাঠামো বা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে যে প্রক্রিয়াই বেছে নিক না কেন, বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হলো দেশের মাটিতে আসামির সুষ্ঠু বিচার ও আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা।