English / বাংলা
Editorial News 24

আন্দোলন প্রত্যাহার, রবিবার থেকে ক্লাসে ফিরছেন খুবি শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা টানা আন্দোলনের পর অবশেষে আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তিন দফা দাবির বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সন্তোষজনক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর ফলে আগামী রবিবার (২ আগস্ট) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হতে যাচ্ছে।শুক্রবার (৩১ জুলাই) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে তারা জানান, প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতিতে শিক্ষার্থীরা আপাতত সন্তুষ্ট। তবে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সামগ্রিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে যদি কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতা পরিলক্ষিত হয়, তবে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ডাক দেন তারা। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সাথে কয়েক দফা আলোচনার পর ভবনগুলোর তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত প্রথম দাবিটি ছিল বিজয় ’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি সুনিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হল প্রভোস্ট বডির জবাবদিহি করা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চারটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন। একই সাথে হল প্রভোস্ট বডির ভূমিকা তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের পর্যালোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।দ্বিতীয় দাবিতে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম এবং বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শিক্ষার্থীদের তৃতীয় দাবিটি ছিল বিতর্কিত 'স্পন্দন-২৪' নামক ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা। শিক্ষার্থীরা জানান, সংশ্লিষ্ট ক্লাবটি ইতোমধ্যে তাদের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে এবং সকল সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আজীবনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ক্লাবটির নিবন্ধন বাতিলের আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো শুরু থেকেই প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শ্রেণীকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্যাম্পাসে দ্রুতই শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্দোলন প্রত্যাহার, রবিবার থেকে ক্লাসে ফিরছেন খুবি শিক্ষার্থীরা
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0