English / বাংলা
Editorial News 24

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ২০

কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই শক্তিশালী কম্পনের পর এলাকাটিতে সম্ভাব্য পরাঘাত বা আফটারশকের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ মিনিট) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল সান হোসে দেল পালমা গ্রামের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯৬ থেকে ১১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল বেশ গভীরে হওয়া সত্ত্বেও কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দেশের বিস্তৃত অঞ্চলসহ কয়েকশ কিলোমিটার দূরের রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।ভূমিকম্প চলাকালে রাজধানী বোগোতার বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় কারাকোল রেডিওর সাংবাদিকেরা সরাসরি সম্প্রচারে থাকাকালীন স্টুডিওর আসবাবপত্র তীব্রভাবে কাঁপতে দেখেন। চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ভূকম্পনের পর আবারও শক্তিশালী আফটারশক হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।দেশটির প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল মানিজালেস শহরে ভূমিকম্পের কারণে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। কলম্বিয়ার দৈনিক এল তিয়েম্পো প্রকাশিত ভিডিওতে একটি ভবন ধসে পড়তে দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিতে সেখানে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তল্লাশি শুরু করেছেন। তা ছাড়া মানিজালেসের একটি ঐতিহাসিক গির্জার চূড়া ভেঙে পড়েছে এবং বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের সম্মুখভাগে গভীর ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে দেশের বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরেও। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেনতুরা বিমানবন্দরে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে বিমান চলাচলে কতটা বিঘ্ন ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা ত্বরান্বিত করেছে।কলম্বিয়ার এই নতুন ট্র্যাজেডি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি হওয়া দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময় আগে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৬ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। কলম্বিয়ার এই দুর্যোগের পর পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ২০
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0