English / বাংলা
Editorial News 24

ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি খাত

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন এবং চারপাশের নদীপথকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে আবারও যাত্রীবাহী ওয়াটার বাস চালুর নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বে নদীদূষণ, নাব্যতাস সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রীদের আকৃষ্ট করার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সার্বিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে এতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেতুমন্ত্রী ঢাকায় ওয়াটার বাস চালুর এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোকে কেবল যাতায়াতের সাধারণ মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব জলপথ হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় একটি চক্রাকার বা সার্কুলার রুট বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে ওয়াটার বাস আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, সদরঘাট এবং বসিল হয়ে পুনরায় গাবতলীতে ফিরে আসবে।নদীদূষণ এবং দুর্গন্ধকে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে বুড়িগঙ্গা ও ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পরিবেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুর্গন্ধ ও বর্জ্যের কারণে সাধারণ মানুষ নৌপথে যাতায়াতে আগ্রহ হারাচ্ছে। নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে চারপাশের পরিবেশ মনোরম করা না গেলে যাত্রী আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ উন্নত করা গেলে মানুষ কেবল প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্যই নয়, বরং বিনোদন ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যেও ওয়াটার বাসে চড়তে উৎসাহিত হবে বলে সরকার আশা করছে।হাতিরঝিলের ওয়াটার বাস সেবার সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, হাতিরঝিলে যাত্রীদের বিপুল চাহিদা রয়েছে এবং সেখানে চলাচলে তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু ঢাকার চারপাশের দীর্ঘ ও বিস্তৃত নদীপথে একই পরিচালনা মডেল পুরোপুরি কার্যকর হবে না। সে কারণেই নতুন ভাবনায় যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটন ও বিনোদন অংশটিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত জটিলতার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী জানান, নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে কয়েকটি কম উচ্চতার সেতু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে টঙ্গীর রেলসেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস চলাচলের মতো পর্যাপ্ত উচ্চতা নেই। সড়ক সেতুগুলোর উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়। এই সমস্যার বিকল্প হিসেবে যাত্রীদের সেতুর এক পাশে নামিয়ে সেতু পার করিয়ে অপর পাশে অপেক্ষমাণ অন্য একটি ওয়াটার বাসে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত এই উদ্যোগের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। আপাতত সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলো নিজ নিজ দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রাথমিক কাজ সম্পাদন করবে। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দিলে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান শেখ রবিউল আলম। আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকেই বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঢাকার নৌপথকে পুনরায় সচল করা।

ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি খাত
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0