ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া টানা অভিযানে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৮১ জনে। একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় মোট আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৩১ জনে।বুধবার (৫ আগস্ট) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া নিয়মিত দৈনিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল নতুন করে চারজন ফিলিস্তিনির মরদেহ গ্রহণ করেছে। এদের মধ্যে দুজন পূর্বে পরিচালিত ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া অপর দুজনের মরদেহ সাম্প্রতিক তল্লাশিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে হামলায় নতুন করে একজন আহত হয়েছেন।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সদ্য নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় কিংবা হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ ও সার্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও তা ক্রমাগত লঙ্ঘন করে চলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক তোয়াক্কা না করে গাজার বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এসব পৃথক ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ১২১ জন।এদিকে গাজার সার্বিক মানবিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনো বহু মানুষ বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং প্রধান সড়কগুলোতে আটকা পড়ে আছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত বাধা এবং নিরাপত্তার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অনেক স্থানে হতাহতদের উদ্ধার করতে যেতে পারছেন না।দীর্ঘদিনের হামলায় গাজা ভূখণ্ডের আবাসন, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সড়ক যোগাযোগসহ সামগ্রিক অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মোট নিহতের সিংহভাগই নিরপরাধ নারী ও শিশু। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজার এই বিপুল ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো নতুন করে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন করতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।