মানবতাবিরোধী অপরাধে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আসাদের মৃত্যুদণ্ড
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে দেশটির সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার চাচাতো ভাই তথা দেশটির সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের নির্দেশে সংঘটিত নৃশংস অপরাধগুলো চরম মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। সেই সময়ে দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আতেফ নাজিব। তার বিরুদ্ধে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো এবং নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মূলত এই দমন-পীড়নের পরিণতিতেই দেশটিতে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল।সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে আসাদ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ঘোষিত এটিই প্রথম কোনো বিচারিক রায়। ২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে বাশার আল-আসাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৩ বছরের এই গৃহযুদ্ধে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে বাশার আল-আসাদ তার পরিবার ও ভাইদের নিয়ে পালিয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে আশ্রয় নেন। তবে তার অন্যতম সহযোগী ও চাচাতো ভাই আতেফ নাজিব পালাতে ব্যর্থ হন এবং তাকে আটক করে আদালতের মুখোমুখি করা হয়। প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আসাদ পরিবারের রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে এই রায়কে সিরিয়ার বিচারব্যবস্থায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।