হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনোক) মালিকানাধীন ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হলেও সৌভাগ্যবশত এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, ভোরের দিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় জাহাজটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক রুটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এহেন কর্মকাণ্ডকে 'জলদস্যুতা' হিসেবে অভিহিত করেছে আবুধাবি। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে ইরানকে অবিলম্বে এই ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইউএই।রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম (WAM)-এর এক প্রতিবেদনে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের একটি জাহাজ আন্তর্জাতিক সীমানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কিংবা তৎকালীন সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল বা অর্থনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্তির হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।এডনোক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাদের অন্তত ১৫টি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে কেবল চলতি সপ্তাহেই তাদের তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত একজন ক্রু নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শুক্রবারের বিবৃতিতে সরাসরি কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা থেকে বিরত থাকে তারা।এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতি ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর দ্রুত ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে উপসাগরীয় ও আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর মহাসচিব জাসিম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই এই ঘটনাকে একটি বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য উসকানিমূলক পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক নৌ পথের সুরক্ষা নিশ্চিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান। কাতার ও জর্ডানও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালিকে দর-কষাকষির হাতিয়ার বানানোর যেকোনো প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।অন্যদিকে, সৌদি আরব কঠোর ভাষায় এই আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইরানের এমন ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী। রিয়াদ অবিলম্বে এ ধরনের আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানায়। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পথে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা