মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা: হাইকোর্টে শুনানি শুরু
মাগুরার বহুল আলোচিত ও স্পর্শকাতর আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন এবং আসামির আপিল শুনানি হাইকোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়।আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। শুনানিতে তাকে সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা এবং মাহবুবা তাসনিম আঁখি। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতকে মামলার যাবতীয় নথিপত্র এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিবরণ বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।মামলার নথি অনুযায়ী, মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ২০২৫ সালের ১৭ মে এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে প্রধান আসামি শিশু আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামি—আছিয়ার বোনের জামাই সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেন আদালত। নিম্ন আদালতের ওই রায়ের পর দণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি কারাবন্দী আসামি হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন।ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরা জেলার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশু আছিয়া। সেখানে অবস্থানকালে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চরম শারীরিক ট্রমার মুখোমুখি হওয়া শিশুটির শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আছিয়া।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এসব স্পর্শকাতর ও নৃশংস মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৬ সালের ১০ জুন বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। সেই বিশেষ বেঞ্চেই আজ আলোচিত এই মামলাটির আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হলো।