তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার কয়েক দিন আগে প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ এবং মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলমগীর শেখ ওসমান হাদির চলাফেরা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়মিত কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘটনার দিন তারা মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদের কাছে অবস্থান নেন। জুমার নামাজ শেষে হাদি বের হলে তারা তাকে অনুসরণ করেন। দুপুর আনুমানিক ২টা ২৪ মিনিটে ডিআর টাওয়ারের সামনে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ফয়সাল খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করেন।গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরেও নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
তদন্তে বিভিন্ন সংস্থা ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান শুটার এবং মোহাম্মদ আলমগীর শেখকে মোটরসাইকেল চালক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি পলাতক যুবলীগ নেতা মো. তাইজুল ইসলাম বাপ্পীকে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মোবাইল নম্বর, কল রেকর্ড, সিডিআর, আইএমইআই, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সন্দেহভাজনদের অবস্থান ও যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে একটি বড় সহায়ক নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছেন।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হামলার আগে অস্ত্র সংগ্রহ, নিরাপদ আশ্রয় এবং পালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হামলার আগে ও পরে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, উত্তরা, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর ও সাভার এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজনের চলাচলের তথ্যও পাওয়া যায়।তদন্ত অনুযায়ী, বাপ্পী ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ভ্রমণ ভিসায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। সেখানে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে অন্য নামে ভারতীয় আধার ও প্যান কার্ড সংগ্রহ করেছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফয়সাল ও আলমগীর হামলার অন্তত চার-পাঁচ দিন আগে হাদির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তারা অনুসারী, ভোটার বা রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয়ে তার কাছাকাছি থেকে চলাফেরা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়মিত গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। ঘটনার আগের দিন আলমগীর তার পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করেন। হামলার আগে ও পরে তারা একাধিক মোবাইল নম্বর ও হ্যান্ডসেট ব্যবহার করেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার দিন দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে হাদি জুমার নামাজের জন্য মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদে প্রবেশ করেন। তিন মিনিট পর ফয়সাল ও আলমগীর মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছে আশপাশে অবস্থান নেন। তারা দীর্ঘ সময় এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন। নামাজ শেষে হাদি বের হলে তারা তাকে অনুসরণ করেন। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে হাদি অটোরিকশায় ওঠার পরও তারা মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। পরে দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে ডিআর টাওয়ারের সামনে ফয়সাল খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করেন। এরপর তারা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান।
তদন্তে বলা হয়েছে, হামলার পর ফয়সাল ও আলমগীর মানব পাচারকারী ও চোরাকারবারি নেটওয়ার্কের সহায়তায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ২০২৬ সালের মার্চে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ টাস্কফোর্স তাদের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পরিচয় গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়।
বাংলাদেশে আলমগীরের মা ও স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি যোগাযোগ, অর্থায়ন এবং আলামত গোপনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
হামলার পর পল্টন থানায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। হাদি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ডিবি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, মোবাইল যোগাযোগ, সিডিআর, আইএমইআই, অস্ত্র ও যানবাহনের গতিপথ বিশ্লেষণ করে তদন্ত করে। হত্যাকাণ্ডের ২১ দিনের মধ্যে ডিবি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। তবে হাদির পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চ অভিযোগ করে, এতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
পরবর্তীতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। সিআইডি মূল নির্দেশদাতা, অর্থায়নের উৎস, অস্ত্র সরবরাহ, ডিজিটাল যোগাযোগ, রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা এবং সীমান্ত পারাপারে সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের বিষয়টিও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যর্পণে আইনি জটিলতা
ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভারতে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পরিচয় গোপন এবং বেআইনিভাবে অবস্থানের মামলা চলছে। এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সরাসরি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কঠিন হতে পারে। এ কারণে প্রত্যর্পণের জন্য দুই দেশের সরকার, আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন।
বাংলাদেশে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় আসামিদের সম্ভাব্য সাজা ও মানবাধিকার বিষয়েও আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে। পাশাপাশি আসামিরা যদি মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন, তাহলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আরও আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে চলমান মামলার নিষ্পত্তি, বাংলাদেশের দেওয়া নথির গ্রহণযোগ্যতা, আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের আইনে অপরাধের সামঞ্জস্য—এসব বিষয় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে। দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আইনি সমন্বয় প্রয়োজন।
হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চ অভিযোগ করেছে, ডিবির প্রাথমিক অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ব্যক্তিদের আড়াল করা হয়েছে এবং সিআইডির তদন্তেও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে। সংগঠনটি হত্যার বিচারকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হিসেবেও দেখছে।তদন্ত ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা চলতে থাকলে বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। বিরোধী দলগুলোও এ ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার কয়েক দিন আগে প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ এবং মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলমগীর শেখ ওসমান হাদির চলাফেরা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়মিত কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘটনার দিন তারা মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদের কাছে অবস্থান নেন। জুমার নামাজ শেষে হাদি বের হলে তারা তাকে অনুসরণ করেন। দুপুর আনুমানিক ২টা ২৪ মিনিটে ডিআর টাওয়ারের সামনে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ফয়সাল খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করেন।গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরেও নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
তদন্তে বিভিন্ন সংস্থা ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান শুটার এবং মোহাম্মদ আলমগীর শেখকে মোটরসাইকেল চালক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি পলাতক যুবলীগ নেতা মো. তাইজুল ইসলাম বাপ্পীকে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মোবাইল নম্বর, কল রেকর্ড, সিডিআর, আইএমইআই, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সন্দেহভাজনদের অবস্থান ও যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে একটি বড় সহায়ক নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছেন।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হামলার আগে অস্ত্র সংগ্রহ, নিরাপদ আশ্রয় এবং পালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হামলার আগে ও পরে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, উত্তরা, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর ও সাভার এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজনের চলাচলের তথ্যও পাওয়া যায়।তদন্ত অনুযায়ী, বাপ্পী ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ভ্রমণ ভিসায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। সেখানে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে অন্য নামে ভারতীয় আধার ও প্যান কার্ড সংগ্রহ করেছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফয়সাল ও আলমগীর হামলার অন্তত চার-পাঁচ দিন আগে হাদির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তারা অনুসারী, ভোটার বা রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয়ে তার কাছাকাছি থেকে চলাফেরা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়মিত গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। ঘটনার আগের দিন আলমগীর তার পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করেন। হামলার আগে ও পরে তারা একাধিক মোবাইল নম্বর ও হ্যান্ডসেট ব্যবহার করেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার দিন দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে হাদি জুমার নামাজের জন্য মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদে প্রবেশ করেন। তিন মিনিট পর ফয়সাল ও আলমগীর মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছে আশপাশে অবস্থান নেন। তারা দীর্ঘ সময় এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন। নামাজ শেষে হাদি বের হলে তারা তাকে অনুসরণ করেন। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে হাদি অটোরিকশায় ওঠার পরও তারা মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। পরে দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে ডিআর টাওয়ারের সামনে ফয়সাল খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করেন। এরপর তারা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান।
তদন্তে বলা হয়েছে, হামলার পর ফয়সাল ও আলমগীর মানব পাচারকারী ও চোরাকারবারি নেটওয়ার্কের সহায়তায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ২০২৬ সালের মার্চে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ টাস্কফোর্স তাদের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পরিচয় গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়।
বাংলাদেশে আলমগীরের মা ও স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি যোগাযোগ, অর্থায়ন এবং আলামত গোপনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
হামলার পর পল্টন থানায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। হাদি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ডিবি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, মোবাইল যোগাযোগ, সিডিআর, আইএমইআই, অস্ত্র ও যানবাহনের গতিপথ বিশ্লেষণ করে তদন্ত করে। হত্যাকাণ্ডের ২১ দিনের মধ্যে ডিবি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। তবে হাদির পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চ অভিযোগ করে, এতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
পরবর্তীতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। সিআইডি মূল নির্দেশদাতা, অর্থায়নের উৎস, অস্ত্র সরবরাহ, ডিজিটাল যোগাযোগ, রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা এবং সীমান্ত পারাপারে সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের বিষয়টিও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যর্পণে আইনি জটিলতা
ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভারতে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পরিচয় গোপন এবং বেআইনিভাবে অবস্থানের মামলা চলছে। এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সরাসরি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কঠিন হতে পারে। এ কারণে প্রত্যর্পণের জন্য দুই দেশের সরকার, আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন।
বাংলাদেশে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় আসামিদের সম্ভাব্য সাজা ও মানবাধিকার বিষয়েও আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে। পাশাপাশি আসামিরা যদি মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন, তাহলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আরও আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে চলমান মামলার নিষ্পত্তি, বাংলাদেশের দেওয়া নথির গ্রহণযোগ্যতা, আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের আইনে অপরাধের সামঞ্জস্য—এসব বিষয় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে। দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আইনি সমন্বয় প্রয়োজন।
হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চ অভিযোগ করেছে, ডিবির প্রাথমিক অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ব্যক্তিদের আড়াল করা হয়েছে এবং সিআইডির তদন্তেও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে। সংগঠনটি হত্যার বিচারকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হিসেবেও দেখছে।তদন্ত ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা চলতে থাকলে বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। বিরোধী দলগুলোও এ ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন