উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তাঁদের ধারণা, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি করতে পারে। এতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও কমতে পারে।বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে ৯৩ ডলার ৬৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ ডলার ১৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ৮৬ ডলার ৯৮ সেন্টে নেমে এসেছে।এর আগের কার্যদিবসেও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমেছিল। এর ফলে গত ৩১ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম।উপসাগরীয় অঞ্চলের সরকারি মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বুধবার জানিয়েছে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে। এতে রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও কমতে পারে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখন বাজারের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে—এমন ধারণা থেকেই বিনিয়োগকারীরা তেলের দাম নির্ধারণ করছেন।তবে সামনে জ্বালানি তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর মতে, সংঘাতের অবসানে একটি পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর পথ এখনো অনিশ্চিত। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কৌশলগত তেলের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বাজারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।তথ্যসূত্র: রয়টার্স