উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলে। দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও এবার সুবিধা করতে পারেনি রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের মধ্যে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে ২৩৭টি এবং রিপাবলিকানরা ১৩৯টি আসন। সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে গেছে ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৪টি আসন। বাকি আসনগুলোর ফল তখনো পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকাশিত ফলাফল ছিল আংশিক।এবারের নির্বাচনে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা গভর্নরও নির্বাচন করেছেন। এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের হারের কারণ হলো যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে এ কথা বলেছেন।’কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের দাপটসিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে দলটি সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচনী এই ফলাফলে রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী এলাকাগুলোতেও ভরাডুবি হয়েছে।কানসাস ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার চান, কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতার ওপর কঠোর নজরদারি ও ভারসাম্য বজায় থাকুক।নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ানির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়কর ফলাফলে শুরুতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলাফল প্রচারের সময় রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের নির্বাচন কভারেজ এবং বুথফেরত জরিপ নিয়ে অসন্তোষ জানান তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নিজে ব্যালটের প্রার্থী না হওয়ায় রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানান তিনি। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিবাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের বাইরে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে।নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত এক ফোনালাপে ট্রাম্পকে বেশ নিষ্প্রভ শোনাচ্ছিল। দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের খবরের মধ্যেই তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তবে রিপাবলিকানদের পরাজয় সত্ত্বেও দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, যেকোনো প্রেসিডেন্টের ইতিহাসে এই সময়টিকে তিনি সবচেয়ে সফল দুই বছর বলে মনে করেন।মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল দেখেন ট্রাম্প। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক।উপস্থিত কয়েকজন ওই সময়ের পরিবেশকে ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ ও ‘শোকাবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। সন্ধ্যার পুরো সময়জুড়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচনের আগে জনমত জরিপের ফল সম্পর্কে তাঁকে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য উপদেষ্টাদের দায়ী করেন তিনি। ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত নন ট্রাম্পনিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। সুযোগ পেলে আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।তবে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষায়, ইরান ইস্যুতে ভোটারদের আপত্তি ছিল না, তবে তাঁরা সম্ভবত তেলের দাম নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো আফসোস নেই। বরং দেশ ও বিশ্বের ভবিষ্যতের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।ট্রাম্পের দাবি, একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে ডেমোক্র্যাট নেতারা ইতোমধ্যে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে কারা যোগাযোগ করেছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। সরকারের ঋণসীমা নির্ধারণের মতো বিষয়ে দুই দল একসঙ্গে কাজ করতে পারবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।তিনি বলেন, তাঁর হাতে পূর্ণ ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। তাই ডেমোক্র্যাটদের তাঁর সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে ভালো কোনো প্রস্তাব এলে একসঙ্গে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত। ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি’যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে পড়লে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিতে নিজের জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ বলেও দাবি করেছেন তিনি।কানাডার সংবদমাধ্যম ইয়াহু লাইফস্টাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রসিকতার ছলে এমন মন্তব্য করেন ৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে গেলে তিনি সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর ভাষ্য, ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই।সূত্র: সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, এপি, বিবিসি ও সিবিএস নিউজ,বাংলাদেশ প্রতিদিন