উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানির সংকট মোকাবিলায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এ প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।কৃষকদের সেচ সুবিধায় খাল খনন কর্মসূচিকৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং পানির সংকট কমাতে খাল খননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, খাল খননের ফলে কৃষকেরা সেচের জন্য পানির সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।উত্তরাঞ্চলকে দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও পানির সংকট রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বরেন্দ্র প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন।জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণবক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এবং একই সঙ্গে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকেও গুরুত্ব দেয়।জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।তারেক রহমান বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমন্ত্রিত কয়েকটি দলের কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।কারখানায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা নিয়ে সতর্কবার্তাদেশের কয়েকটি শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। পলাতক স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, একটি পক্ষ বাইরে থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, আর অন্য একটি পক্ষ দেশের ভেতরে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।জনসভায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরাজনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রণ রায় চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা।