উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে আফ্রিকা ঘুরে বাংলাদেশে আসছে এক লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল।মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ এমটি নিনেমিয়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ১ লাখ ৪ হাজার ২৬ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে। আগামী শনিবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।স্বাভাবিক সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে প্রায় ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ১৩ থেকে ১৫ দিনে জাহাজটি চট্টগ্রামে পৌঁছাত। তবে নিরাপত্তার কারণে এবার সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে সময় লাগছে প্রায় ৫২ দিন এবং কয়েক মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।গত ২৩ জুলাই ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে এমটি নিনেমিয়া। বর্তমানে জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর ছোট ট্যাংকারে তেল খালাসের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৪০০ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে। এখান থেকে সবচেয়ে বেশি ডিজেল উৎপাদনের পাশাপাশি এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও অকটেনও পাওয়া যায়। রিফাইনারির ট্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন ক্রুড অয়েল মজুদ রয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজের বার্থিং, চলাচল, লাইটারিং ও খালাস কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গত ১২ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে এমটি নিনেমিয়ার প্রথম চালানে তেল আসার পর ৮ মে রিফাইনারির উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়। সংকট মোকাবেলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকেও বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে।