উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একক নিয়ন্ত্রণ কমাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি, বিতরণ ও খুচরা বাজারজাতকরণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করতে চায় সরকার। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেল সংরক্ষণের সক্ষমতাও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের বাজারে বিপিসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থাকায় তেল চুরি, পাচার ও বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বেসরকারি খাতকে এই ব্যবসায় যুক্ত করা হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতাও বাড়তে পারে।তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখা উচিত। তাদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বেসরকারি খাতের বিদ্যমান অবকাঠামো ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে দেশে জ্বালানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতের অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠান সরকারের সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের কতটুকু অংশ পাবে, আমদানি ও বাজারজাতকরণে কী শর্ত থাকবে এবং জ্বালানি তেলের দাম কীভাবে নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয় নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর স্পষ্ট হবে।বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেলের বাজারে যুক্ত করার বিষয়ে বেশ কিছুদিন আগে একটি চিঠি বিপিসিতে এসেছে। চিঠিটি প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল বিভাগে গেলেও পরে মার্কেটিং বিভাগে পাঠানো হয়। কারণ জ্বালানি তেলের বাজারসংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব ওই বিভাগের।বর্তমানে দেশে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বড় অংশই বিপিসি আমদানি করে। ফার্নেস অয়েল, ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েলের মতো পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেও সরকারি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ভূমিকা রয়েছে।অন্যদিকে, কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ও আমদানিকৃত কনডেনসেট এবং ন্যাফথা ব্যবহার করে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সুপার পেট্রোকেমিক্যালস, অ্যাকুয়া রিফাইনারি ও পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি। তবে উৎপাদিত জ্বালানি তারা সরাসরি খুচরা বাজারে বিক্রি করতে পারে না; বিপিসির কাছেই তা বিক্রি করতে হয়।এ ছাড়া বেসরকারি মালিকানাধীন ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেদের ব্যবহারের জন্য সরাসরি ফার্নেস অয়েল আমদানি করে থাকে।সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেলের ব্যবসায় যুক্ত করা হলে বিপিসির একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার হতে পারে।