উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে (৪২) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। পরে বাসার ভেতরের একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় পালিয়ে যান ওয়াকিল।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। হামলায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), তার বডিগার্ডসহ অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওয়্যারলেস কলোনির বাসিন্দা ওয়াকিল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে জোর করে তুলে নিয়ে মারধর এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওয়াকিলকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।এই মামলাসহ তার বিরুদ্ধে থাকা অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্ট ও অন্যান্য অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ওয়াকিলের অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে। এরপর তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বোতল ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তিন থেকে চারটি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। হামলায় ওসির হাতসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।পরে পুলিশের একাধিক দল ওয়্যারলেস এলাকার বিভিন্ন গলি ও ওয়াকিলের বাসায় একযোগে অভিযান চালায়। এ সময় বাসার ভেতরে একটি গোপন সুড়ঙ্গ ও পালানোর পথের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, ওই পথ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় ওয়াকিল পালিয়ে যান।পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় ওয়াকিল মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে পুলিশকে হুমকি দেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, কলেজশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ওয়াকিলের বিরুদ্ধে থাকা অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্টসহ অন্যান্য অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তবে আসামির সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি জানান, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ওয়াকিল হোসেনসহ জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।