উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ফিলিস্তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে মসজিদকে আর আগের মতো নিরাপদ স্থান হিসেবে মনে করতে পারছেন না স্থানীয়রা।নাইম নামের এক ফিলিস্তিনি আল জাজিরাকে বলেন, মসজিদ এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ কোনো ধরনের হামলার ভয় ছাড়াই নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা। কিন্তু পশ্চিম তীরে সহিংসতা বাড়তে থাকায় এখন মসজিদে যাওয়ার সময়ও মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করে।মাদামা গ্রামে হামলার ঘটনাকে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। নাইমের দাবি, নামাজের সময় অভিযান চালানোর মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ানো হচ্ছে এবং তাদের সন্ত্রস্ত রাখতে সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।তিনি বলেন, তাদের গ্রামটি বসতি, বাইপাস সড়ক ও সেনাবাহিনী দিয়ে চারদিক থেকে ঘেরা একটি দ্বীপের মতো হয়ে গেছে। বাইরে যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ পথ বা জায়গা নেই।নাইমের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতির বিস্তার ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোকে একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। এসব এলাকায় বর্তমানে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকদের ফিলিস্তিনবিরোধী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট সদস্য জভি সুকোট মাদামা গ্রামে প্রবেশ করে একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এর কয়েক ঘণ্টা পর কাছের বাজারিয়া শহরের ইমাদ আল-দীন জাঙ্কি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদের নিচতলায় দাহ্য তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।বাজারিয়া গ্রাম পরিষদের সাবেক প্রধান তাইসির সাফারিনি জানান, আগুনের শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘুম থেকে উঠে যান। পরে তারা বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীদের খবর দেওয়ার পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে নিজেরাও চেষ্টা করেন।হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় হুমকিমূলক ও বর্ণবাদী বিভিন্ন বার্তা লিখে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে আরবদের হত্যার হুমকি এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিকে উদ্দেশ করে একটি ব্যঙ্গাত্মক বার্তাও ছিল।মাইক হাকাবি অতীতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বসতি স্থাপনকারীদের একাংশকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।মসজিদে হামলার পর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভয়াবহ ধর্মীয় সংঘাতের দিকে পরিস্থিতিকে ঠেলে দিতে পারে।ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও মসজিদে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১৩টি মসজিদ ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে। আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ২৬ বার অনুপ্রবেশ এবং হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে ১৫৫ বার আজান বন্ধ রাখার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অন্তত ৭৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন শিশু। একই সময়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাবে, ১ হাজার ৪৫০টির বেশি বসতি স্থাপনকারীর হামলায় প্রায় ১ হাজার ৪০ জন আহত হয়েছেন।ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সহিংসতায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নিরাপত্তাবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কারণে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যেতে দিতে চান না।নাইম বলেন, তিনি নিজের ছেলেকেও মসজিদে বা অন্য কোথাও যেতে দিতে ভয় পান। প্রতিদিনই অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে বাড়িতে থাকতে বলেন।তথ্যসূত্র: আল জাজিরা