উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মরদেহ আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) এর মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন।মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।নিহত বাংলাদেশিরা হলেন—আকরাম আলী, দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শিরমিন, সর্নাশীষ দত্ত, বাবু আহমেদ, রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান।নিহত দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল।বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সাত বাংলাদেশির মরদেহ এখনো মর্গে রাখা হয়েছে।ডেপুটি হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবারের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।ইতোমধ্যে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া থেকে এবং এস এম আলিমুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা সাতক্ষীরা থেকে কলকাতায় পৌঁছেছেন। দুই ভারতীয় নাগরিকের পরিবারের সদস্যরাও মর্গে উপস্থিত হন।এস এম আলিমুজ্জামানের ভাগ্নে মোহাম্মদ আমিনুল হক জানান, তার মামা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।হোটেল ইজারাদার গ্রেপ্তারঅগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার হিসেবে নিবন্ধিত আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুই হোটেলকর্মীকে আটক করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, এন্টালি থানার মেইন মার্কেট এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি জোড়াসাঁকো এলাকায়। হোটেল পরিচালনার ব্যবস্থা, লিজ সংক্রান্ত নথি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চলছে।প্রাথমিকভাবে এসি মেশিনে বিস্ফোরণ অথবা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন হোটেলের অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় হোটেলের ভেতরে থাকা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্বে দলটি আগুনের উৎস, ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে।হোটেল-লজে অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষাঅগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকার হোটেল ও লজগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু করেছে পুলিশ।ইতোমধ্যে কলিন লেনের সাতটি লজ ও চারটি গেস্ট হাউসে আপাতত অতিথি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণও জানতে চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসে অভিযান শুরু হয়েছে। বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করছেন।