উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
রাজধানীর সদরঘাটে চাঁদাবাজির টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মিতুল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে সূত্রাপুর থানাধীন ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিতুল কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।নিহত মিতুল ঝালকাঠি জেলার সাহাবাঙ্গল গ্রামের মো. রাসেল সরদারের ছেলে। তিনি পুরান ঢাকা এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক যুবদল নেতা সোবহান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে। তারা দুজনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ছিলেন। সদরঘাট এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থান ও মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদার অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছিল।শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে চাঁদার টাকা বণ্টন নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে কিরণ গ্রুপের সদস্য মিতুলের বুকে ধারালো কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে মারাত্মক আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে আরও একজন আহত হন।আহত অবস্থায় মিতুলকে দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নিহতের স্বজন, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া দাবি করেন, সংঘর্ষে জড়িতরা তার সরাসরি সমর্থক নন। তিনি জানান, তারা মাঝে মাঝে দলীয় মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিলেও তাদের ব্যক্তিগত বিরোধের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ঘটনার বিস্তারিত এখনো অবগত নন বলে জানান।রাজনৈতিক বিরোধ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি ভিন্নভাবে তদন্ত করছে। সূত্রাপুর থানার অপারেশন ইনচার্জ মতিউর রহমান জানান, ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৩ তলায় কিছু শ্রমিক বসবাস করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যকার পূর্ব কোনো বিরোধ বা ঝামেলার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে এক যুবককে কাঁচি দিয়ে আঘাত করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে তদন্ত ও অভিযান শুরু হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।