উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
চলতি আগস্ট মাসের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। মাসের প্রথম নয় দিনেই দেশে ১১৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ বেড়েছে ৬৯ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এই ইতিবাচক চিত্রের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ থেকে ৯ আগস্ট সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চলতি বছরে একই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু ৯ আগস্ট একদিনেই দেশে বৈ আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে ২০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা একক দিন হিসেবে বেশ সন্তোষজনক।এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয় অর্জনের গতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ৪০০ কোটি ১০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩১৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রায় ৪০ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ।অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা হুন্ডি বা অবৈধ পথ এড়িয়ে বৈধ ও আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে বেশি অর্থ পাঠানোয় রেমিট্যান্সে এই প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর পুনর্নির্ধারণ এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দ্রুত স্বজনদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে দেশের বাজারে ডলার সংকট কিছুটা নিরসন হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে টাকার তারল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভের অবস্থানকে বেশ শক্তিশালী করছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিগত কয়েক মাস ধরে ডলার সংকটের কারণে রিজার্ভে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, রেমিট্যান্সের এই বড় ধাক্কায় তা অনেকটাই প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি আগস্ট মাস শেষে রেমিট্যান্স অর্জনের পরিমাণ একটি নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে। প্রবাসী আয়ের এই জোয়ার বজায় রাখা গেলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে।