উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর বহুল আলোচিত মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বিমানবন্দর থেকে সিআইডি কর্তৃক গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে এ বিচারিক সিদ্ধান্ত আসে।রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. জুয়েল রানার আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। এর আগে ওই দিন বিকেলে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আরিফুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার জন্য আবেদন জানান।শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বিচারককে অবহিত করেন যে, এ মামলার অন্যতম আসামি ডন দীর্ঘ দিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি গোপনে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিআইডির একটি চৌকস দল তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামির সরাসরি জড়িত থাকার স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষে কোনো জামিন আবেদন পেশ করা হয়নি, যার ফলে আদালত তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার নথি ও ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসভবনে রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারান ঢালিউডের তৎকালীন শীর্ষ নায়ক সালমান শাহ। ঘটনার পর পরই তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।পরবর্তীতে আদালত অপমৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দুটি একসাথে তদন্ত করার দায়িত্ব দেন সিআইডিকে। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার সিএমএম আদালত সিআইডির প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। তবে সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই সিআইডির এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছিল এবং পরবর্তীতে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন।দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক। তিনি ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় সালমানের স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও এবং খল অভিনেতা ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে সিআইডি এই হত্যা মামলার বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করছে।