উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের আলোচিত শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশের প্রেক্ষিতে এবং আসামির পালিয়ে যাওয়া রোধে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দুপুরে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পিবিআই সূত্রে জানা যায়, মামলার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে গত ৪ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিলেন আসামি হাফিজুর রহমান। তবে পরবর্তীতে ৬ আগস্ট হাইকোর্টের দেওয়া সেই জামিন আদেশ স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে। সেই আদেশের ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে তাকে ফের গ্রেফতার করা হয়।এর আগে মামলার তদন্তের স্বার্থে উক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আপিল বিভাগের নতুন স্থগিতাদেশের কারণে তাকে পুনরায় গ্রেফতারের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, মামলার সঠিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া ঠেকাতেই দ্রুততম সময়ে আসামি হাফিজুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্য থেকে তনুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এই নির্মম ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটির তদন্তভার একাধিক সংস্থার হাত ঘুরে বর্তমানে পিবিআইয়ের হাতে রয়েছে। তনুর পরিবারসহ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ দীর্ঘ দিন ধরে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।