উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
গাজীপুরের পাতারটেকে তথাকথিত জঙ্গি বিরোধী অভিযান সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। ২০১৬ সালে 'অপারেশন শরতের তুফান' নামে পরিচালিত ওই ভুয়া অভিযানে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ আনা হয়েছে।রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ আবেদন পেশ করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার বিস্তারিত তথ্য ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান।শুনানিকালে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মতাদর্শ দমনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভীতিজনক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হতো এবং পরে সাজানো অভিযানের নামে নাটক তৈরি করে তাদের হত্যা করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেশে 'জঙ্গিবাদের উপস্থিতি' দেখানোর অজুহাতে এ ধরনের অপরাধ চালিয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।পাতারটেকের ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রসিকিউশন জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজন তরুণকে তুলে নিয়ে প্রথমে বগুড়ার একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোয়াত ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যৌথ অভিযানে 'অপারেশন শরতের তুফান' নাম দিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহতের স্বজনদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়। স্বজনরা যেন লাশ দাবি করতে না পারেন সেজন্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুমকি দিয়েছিলেন। ফলে আতঙ্কে চারজন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় পাওয়া তিনজন হলেন—মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। এর মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিহতের বাবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন।এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিঞা, সাবেক সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক অতিরিক্ত এসপি আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান।বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে সাবেক আইজিপি শহীদুল হক ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিঞাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগের নথিপত্র পর্যালোচনা ও শুনানির প্রস্তুতির জন্য সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ আগস্ট আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।