উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এমন একটি স্পর্শকাতর মন্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর দেশটির প্রধান প্রধান বিরোধী দল একযোগে তার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। বিরোধী নেতাদের স্পষ্ট কথা, শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার কোনো অধিকার বা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর নেই; বরং দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার জন্য মোদিরই তরুণ সমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, দিল্লি ও দেশের অন্যান্য স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে তার এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। মোদি বলেন, সমাজে তৈরি হওয়া ক্ষোভ তিনি বুঝতে পারছেন এবং একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি তরুণদের ভুলকে ক্ষমা করে দিয়ে সঠিক পথ দেখাতে চান। তবে আন্দোলনকারীদের অশালীন ভাষা প্রয়োগ নিয়ে নিজের গভীর হতাশার কথাও প্রকাশ করেন তিনি।তবে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী কড়া ভাষায় মোদির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে নিবিড় প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীরা আজ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার শিকার। পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই যেখানে ধসে পড়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শোকাহত কোনো পরিবারের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো ‘ক্ষমা’ করার কথা বলছেন। রাহুল স্পষ্ট করে বলেন, ভারতের শিক্ষার্থীদের নরেন্দ্র মোদির ক্ষমার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই, বরং নিজের ব্যর্থতার জন্য মোদিরই তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।কংগ্রেসের পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও এ নিয়ে সরব হয়েছে। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পি চিদাম্বরম ও পবন খেরা মোদির মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, বিজেপি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও অসীম অহংকারই তাদের পতনের পথ তৈরি করছে এবং ভারতের জনগণ কিছুতেই বিজেপিকে আর ক্ষমা করবে না। অন্যদিকে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও পেলেট বন্দুক ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তাদের অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।যদিও বিরোধী দলগুলোর এই একযোগে আক্রমণকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরাতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে পাবলিক এক্সামিনেশনস আইন পাস করা হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, মোদি অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা থেকেই বক্তব্য দিয়েছিলেন, কিন্তু বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করছে।