উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) একাধিক ঘাঁটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। বুধবার ভোরের এ হামলায় অন্তত ২০ যোদ্ধা নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনার পর ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।গত শুক্রবার ১৩ দিনের টানা হামলার পর ইরানে বিমান হামলা স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা ইরানও হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে নতুন করে এই হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।পিএমএফের দাবি, বাগদাদ, নিনেভে, বসরা, কিরকুক, কারবালা, দিয়ালা ও ওয়াসিতসহ বিভিন্ন প্রদেশে তাদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দাবি, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।ঘটনার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি হামলাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তোলে।এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করেছে। জর্ডানের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।অন্যদিকে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা করেছে। তবে হামলার সময়ক্রম নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।জর্ডানে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেনাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, জর্ডানে হামলার জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরাকে পিএমএফের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি অভিযান ইরাকি সরকারের সমন্বয়েই পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন তিনি।এদিকে, হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, প্রস্তাবটি তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উপসাগরীয় দেশগুলো সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ উভয় পক্ষকে পূর্ববর্তী সমঝোতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে যুদ্ধবিরতির পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।