উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
ভারত থেকে দেশে ফেরার চার দিনের মাথায় গ্রেপ্তার হয়েছেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আবারও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে যশোর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজিমুল হক জানান, ইমন যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিলেন। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পুনরায় ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই তাকে আটক করা হয়।তিনি আরও বলেন, ইমন নিয়মিত ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন। পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, তার কাছে দেশি ও বিদেশি—দুটি পাসপোর্ট রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।পুলিশের তথ্যমতে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইমন ভারতে তার সঙ্গেই অবস্থান করতেন। একই সঙ্গে সাজ্জাদের আরেক সহযোগী মোহাম্মদ রায়হানকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে নোয়াখালীর সেনবাগে অভিযান চালানো হলেও তিনি পালিয়ে যান।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সেনবাগের একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় দেয়াল টপকে পালিয়ে যান রায়হান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার জোড়া হত্যা এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাও রয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ইমন অস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ এবং বিভিন্ন সময় ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন। বাকলিয়ার জোড়া হত্যাকাণ্ডে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়ার দায়িত্বও তার ওপর ছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কারাবন্দি ছোট সাজ্জাদের পর বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধচক্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, হত্যা ও অস্ত্রসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ইমন ও রায়হান দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।