উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে বড় সামরিক অভিযান চালালে মার্কিন সেনা ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকের পর ট্রাম্প তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। বৈঠকে পেন্টাগনের দ্রুত কমে আসা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানে। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হলেও এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হাতে থাকা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।বড় হামলায় ঝুঁকি দেখছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টারামার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় সামরিক অভিযান চালালে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ইরানি পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও শরণার্থী পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টাও বড় ধরনের সামরিক অভিযান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ব্যাপক হামলা ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে উল্টো দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমিয়ে দিতে পারে। এতে ইরানের জনগণ ও নেতারা অভ্যন্তরীণ বিরোধ ভুলে বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন।এর পরিবর্তে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন কয়েকজন উপদেষ্টা। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ এই কৌশলকে সমর্থন করছেন বলে জানা গেছে।হামলার পরিকল্পনা ছিল একাধিক ধাপেচলতি সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বহুধাপের বিমান হামলার প্রথম পর্ব অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছিলেন।প্রস্তাবিত হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের উপকূলীয় রাডার, অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ছোট হামলাকারী নৌকা এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা। এসব স্থাপনাকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার জন্য দায়ী করা হচ্ছে।এ ছাড়া ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় ছিল।গত বৃহস্পতিবার 'অ্যাক্সিওস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি আগের চেয়ে আরও বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করছেন এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।তবে সামরিক উপদেষ্টাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে তিনি ওই পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। কর্মকর্তাদের মতে, গত দুই সপ্তাহে জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের তীব্র হামলার পর সেনাদের সুরক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগগত এপ্রিলের শেষ দিকে 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস' জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পেন্টাগন ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৪০ লাখ ডলারের বেশি।মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে পেন্টাগনের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়েছে।এ কারণে ট্রাম্প এখন বড় ধরনের হামলার পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা ও আলোচনার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল বেছে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞায় মিশ্র ফলইরানি বন্দরগুলোতে সম্প্রতি পুনরায় কার্যকর করা মার্কিন নৌ-অবরোধ এখন পর্যন্ত মিশ্র ফল দিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, গত জুনের মাঝামাঝি একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ইরান চীনে তেল সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। সেই তেলের একটি বড় অংশ এখনো সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক অবরোধের পূর্ণ চাপ ইরানের ওপর পড়তে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়েছে। এতে ইরানের তেল রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।এদিকে ইরানের অর্থদাতা বাবাক জানজানির ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের নয়টি প্রতিষ্ঠান ও চার ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।সব মিলিয়ে, সামরিক হামলার বদলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে দুই দেশের মধ্যে সত্যিই কোনো কার্যকর আলোচনা চলছে কি না এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো সমঝোতা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, অ্যাক্সিওস