উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুদানকুলামকে ঘিরে স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ফাঁস হওয়া নথির মধ্যে অবকাঠামোগত নকশা, যন্ত্রপাতির তথ্য ও অনুমোদিত সরবরাহকারীদের বিভিন্ন নথি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রয়টার্স জানায়, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামে পরিচিত একটি র্যানসামওয়্যার গোষ্ঠী এসব তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে। কুদানকুলাম প্রকল্পের অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ আংশিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করে জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।তামিলনাড়ুতে অবস্থিত কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণানের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন থেকে ‘কেকেএনপি’ নামে প্রায় ১৯ হাজার ফাইল ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত রয়েছে। এসব ফাইলের মোট আকার প্রায় ১৪ দশমিক ৩ গিগাবাইট।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নথিগুলোর সময়কাল ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত। রয়টার্স নথিগুলো পর্যালোচনা করলেও স্বাধীনভাবে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।রিলায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের তথ্যকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইওটা’র সার্ভারে সংরক্ষিত তাদের কিছু তথ্য আংশিকভাবে হ্যাক হয়েছে। ইওটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মে মাসের শেষ দিকে সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে জুনের শেষ দিকে রিলায়েন্স তাদের জানায়, বহিরাগত হ্যাকাররা তথ্য ফাঁসের দাবি করেছে।ঘটনাটি তদন্ত করছে ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ট-ইন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া। তবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন জানিয়েছে, ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত তথ্যগুলো সাধারণ সেবা-সংক্রান্ত এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা বা মূল পারমাণবিক ব্যবস্থার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নথিতে রাশিয়ার রোসাটমের সরবরাহ করা মূল পারমাণবিক চুল্লি ব্যবস্থার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের বায়ুচলাচল ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার নকশা, নিয়ন্ত্রণকক্ষের ফ্লোর পরিকল্পনা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ছবি, অনুমোদিত সরবরাহকারীদের তালিকা এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি বীমা পলিসির তথ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রথ সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিদ্বেষপূর্ণ কোনো পক্ষ এসব নথি বিশ্লেষণ করে স্থাপনাটির সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।এর আগে ২০১৯ সালে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের ব্যবহৃত ম্যালওয়্যার শনাক্ত হয়েছিল। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্কের তথ্য অনুযায়ী, সাইবার হামলার শিকার দেশগুলোর তালিকায় বর্তমানে ভারতের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়।