উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
টানা ভারী বর্ষণে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামের আশ্রয়ণ ও আদর্শ গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসতঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় অনেক পরিবারের চুলায় টানা তিন দিন আগুন জ্বলেনি। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন তারা। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ এবং উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে নেমে আসা পানিতে আশ্রয়ণ পল্লীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লীতে পানি প্রবেশ শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। এতে বসতঘর, রান্নাঘর ও চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারই তাদের একমাত্র ভরসা। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় পুরো এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নারী ও শিশুরা পানিতে নামতেও ভয় পাচ্ছেন। সাপের আতঙ্কে অনেক পরিবারের রাত কাটছে নির্ঘুম।পানিবন্দি বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লীতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। চুলা ডুবে যাওয়ায় তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারেননি তারা। আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে, রান্না করা যাচ্ছে না। স্থানীয় দু-একজন জনপ্রতিনিধি ছাড়া আর কেউ খোঁজ নিতে আসেননি।পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার, স্যালাইন ও মোমবাতি বিতরণ করা হয়েছে।খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থী বলেন, এটি বন্যা নয়, বরং টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। খবর পাওয়ার পর প্রশাসন এলাকা পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে জরুরি সহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।