উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
টানা ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া অতি ভারী বর্ষণে জেলা শহরের পানি কমে যাওয়া এলাকাগুলোও পুনরায় প্লাবিত হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরের মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, ফায়ার সার্ভিস এলাকা, বড়ুয়ার টেক, আর্মিপাড়া, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যাচিংঘাট, মুসলিমপাড়া ও শেরে বাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও কোথাও ৮ ফুট পর্যন্ত পানি জমেছে।পানিতে তলিয়ে গেছে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন ব্রিজ সংলগ্ন সাব-স্টেশনের একটি ট্রান্সফরমারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। ফলে সাব-স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টায় সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান শহর পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ২ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে মাতামুহুরী নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছিল।আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ক্যাচিংঘাট ও কালাঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন, আর যাতায়াতের সুবিধায় প্রশাসন নৌকার ব্যবস্থা করেছে।এদিকে জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী ক্রাইক্ষ্যংপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে আটকে পড়া ১২২টি পরিবারকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মেজর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, উদ্ধার হওয়া পরিবারগুলোকে শহীদ মোশাররফ বিজিবি স্কুল ও ক্রাইক্ষ্যংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বন্যার কারণে শনিবার দুপুরের মধ্যেই বান্দরবান-কেরানীহাট মহাসড়ক প্রায় ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। পরে বৃষ্টিপাত আরও বাড়ায় সড়কটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বালাঘাটা এমডিএস এলাকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় বান্দরবান-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বুলবুল আকতার সেতু জানান, জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৫৪টিতে ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসন, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয়দের আশঙ্কা, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী দিনগুলোতে সাঙ্গু নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।