উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় উল্টো পানি বেড়ে মানুষের দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে।বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ২১২টি গ্রামের মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্রাম এখনও পানির নিচে রয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত হয়েছে এক লাখের বেশি ঘরবাড়ি।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া, সরলসহ আটটি ইউনিয়ন। পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করলেও এসব এলাকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা চার দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন অনেকে। নারী ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও ঘরের মালামাল রক্ষায় অনেক পুরুষ সদস্য কোমর বা বুকসমান পানিতে অবস্থান করছেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, স্লুইসগেট দিয়ে পানি নামানোর চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত পানির চাপে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। সরকারিভাবে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে প্রশাসন ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে।অন্যদিকে, যেসব এলাকায় পানি নেমেছে সেখানে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতুর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মাছের খামারেও ব্যাপক লোকসানের খবর পাওয়া গেছে।পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি কমতে শুরু করায় শহরাঞ্চল থেকে পানি নেমেছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।তবে দীঘিনালা-লংগদু, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি এবং সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনও পানির নিচে থাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনে একাধিক যানবাহন বদল করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।এদিকে বান্দরবানে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কসহ রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত আগের তুলনায় কমলেও আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।