উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি উদ্ধার অভিযান। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে, আর প্রতিদিনই বাড়ছে নিহতের সংখ্যা।সোমবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৩৫ জন। তবে এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় ভূমিকম্পে চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে।উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ। তাই এখন উদ্ধার অভিযান মূলত মরদেহ উদ্ধারের দিকেই কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে স্বজনদের খোঁজে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও ধ্বংসস্তূপে ছুটে বেড়াচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য একটি নতুন সামরিক ইউনিটও গঠন করা হয়েছে।বিদেশে থাকা ভেনেজুয়েলার নাগরিকরাও নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বের করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছেন। স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দুই চাচাতো ভাইবোন তাঁদের দাদা-দাদি পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজ দে ভেলোজ-এর সন্ধান চেয়ে পোস্ট করেছেন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সাততলা ভবনে তাঁরা আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।পরিবারের সদস্যদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ভবনটির ধ্বংসস্তূপ সরাতে অন্তত ১০টি বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব অপসারণ করতে হবে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন।ভূমিকম্পের আগেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ছিল ভেনেজুয়েলা। দীর্ঘদিনের খাদ্যসংকট, দুর্বল জনসেবা ও দারিদ্র্যের কারণে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগ সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে।সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। তবে নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৫৯ হাজার, যার মধ্যে হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও রয়েছে। এদিকে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণ শুরু করেছে সরকার। বাসিন্দাদের তিন মাসের মধ্যে নতুন করে নির্মিত অ্যাপার্টমেন্ট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।