উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
বরিশালে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।জানা গেছে, নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতে ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ নিজেই সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করলে তা ভাইরাল হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এমডির কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দুটি চেক, একটি সাদা চেক এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়। এ সময় কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে আরেক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো ঘটনাও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজের দাবি, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। পরে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সব হিসাব নিষ্পত্তি করা হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় অফিসে ঢুকে তাকে মারধর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেকের মাধ্যমে কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। আদালত তার দায়ের করা নালিশি মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অভিযোগ অস্বীকার না করে দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। তার ভাষ্য, আব্দুল আজিজ প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে কাউকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা সমর্থনযোগ্য নয়। বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী মৌখিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ থানায় পৌঁছানোর পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।