উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত সামরিক ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (President Guard Regiment-PGR)।প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ইউনিটটির মূল দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর দায়িত্বের পরিধিও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়।পিজিআরের মূল দায়িত্ববর্তমানে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট শুধু রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিটটি— রাষ্ট্রপতির সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের সফরে নিরাপত্তা প্রদান করে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও জাতীয় দিবসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। জাতীয় সংকট ও বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ দায়িত্ব পালন করে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কৌশলগত স্থানের নিরাপত্তায় প্রয়োজন অনুযায়ী অংশগ্রহণ করে। আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতাগত পাঁচ দশকে পিজিআর আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অস্ত্র, বিশেষায়িত যানবাহন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।ইউনিটটির সদস্যরা নিয়মিতভাবে— ভিভিআইপি সিকিউরিটি ক্লোজ প্রোটেকশন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নগর যুদ্ধ বিস্ফোরক শনাক্তকরণ জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন।শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্তবাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম অভিজাত ইউনিট হিসেবে পিজিআর কঠোর শৃঙ্খলা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের জন্য পরিচিত।রাষ্ট্রীয় সফর, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কূটনৈতিক অনুষ্ঠান কিংবা জাতীয় দিবস—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে এই ইউনিটের সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।জাতীয় সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় সংকটেও প্রয়োজন অনুযায়ী পিজিআর দায়িত্ব পালন করেছে।জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষা এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় এই ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইউনিটগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে পিজিআর নিজেদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করেছে।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সক্ষমতার কারণে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দক্ষ ভিভিআইপি নিরাপত্তা ইউনিট হিসেবে পিজিআরকে বিবেচনা করা হয়।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্যপ্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি সামরিক ইউনিটের জন্মদিন নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ এবং পেশাদারিত্বেরও প্রতীক।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাধারণত বিশেষ দোয়া, কেক কাটা, কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ এবং সদস্যদের সম্মাননা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় অবিচল এক আস্থার নামপ্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫১ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি নির্ভরযোগ্য অংশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার দক্ষতার সমন্বয়ে পিজিআর ভবিষ্যতেও দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে—এমন প্রত্যাশাই দেশবাসীর।