উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর দীর্ঘ চার মাস পর অবশেষে দেশটিতে শুরু হয়েছে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা। সাধারণত ইসলাম ধর্মে দ্রুত দাফন করার বিধান থাকলেও, খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় কেন এত দীর্ঘ সময় লাগল—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জন্ম নিয়েছে নানা কৌতুহল ও প্রশ্ন।গুজব বনাম বাস্তবতা: কোথায় রাখা হয়েছিল মরদেহ?দীর্ঘদিন খামেনির মরদেহ দাফন না করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকেই দাবি করেছিলেন, তার মরদেহ সাময়িকভাবে কোনো গোপন স্থানে পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে ইরানি কর্মকর্তারা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে তখন এই বিশাল শেষকৃত্যের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় এখন এই রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন করা হচ্ছে।মমি নয়, রাখা হয়েছিল আধুনিক হিমাগারেইসলামী শরিয়াহ ও আইনি নিয়ম মেনেই এতদিন খামেনির মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে তেহরান। ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে মরদেহ মমি করা বা কৃত্রিমভাবে তাজা রাখা নিষিদ্ধ। তাই আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ মমি না করে, আধুনিক ফরেনসিক মর্গের হিমাগারে (কোল্ড স্টোরেজ) বিশেষ তাপমাত্রায় বরফ দিয়ে রাখা হয়েছিল। শিয়া ধর্মীয় আইন অনুযায়ী, বিশেষ কোনো জরুরি বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মরদেহ ফ্রিজে রেখে দাফন বিলম্বিত করার বিধান রয়েছে।দাফন ঘিরে ইরানের রাজনৈতিক শক্তির পরীক্ষা: সমাগম হবে ২ কোটি মানুষের!মৃত্যুর চার মাস পর আয়োজিত এই জানাজাকে কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত শক্তির বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে ইরান সরকার। এই শেষকৃত্যে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটিয়ে বিশ্ববাসীকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও শক্তির বার্তা দিতে চায় তেহরান।দাফন প্রক্রিয়ার সময়সূচি:শুক্রবার:তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার সাথে নিহত স্বজনদের মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে।পরবর্তী ধাপ:ইরানের প্রধান ৫টি বড় শহরে পর্যায়ক্রমে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানো হবে।চূড়ান্ত দাফন: আগামী ৯ জুলাই পবিত্র মাশহাদ শহরে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।