উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
পশ্চিম আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল। দেশটির রাজধানী ওয়াগাদুগুতে রাষ্ট্রপতি ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের কাছে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবিব উল্লাহ (বিজিবিএম, পিবিজিএম, এনডিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র (Letter of Credence) পেশ করেছেন।গত ২৬ জুন ২০২৬ কোসবিয়াম প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে পশ্চিম আফ্রিকায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।পরিচয়পত্র গ্রহণের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ও বুরকিনা ফাসোর সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়।দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতায় গুরুত্ববৈঠকে রাষ্ট্রপতি ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে 'সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন' আরও জোরদার করা জরুরি। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবিব উল্লাহও দুই দেশের সম্পর্ককে কেবল আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর ও সংলাপের মাধ্যমে সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনাবৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বুরকিনা ফাসো থেকে কাঁচা তুলা (Cotton) আমদানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG), ওষুধ শিল্প (Pharmaceuticals) এবং চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব খাতে সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।কৃষি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর জোরবৈঠকে কৃষি খাতে প্রযুক্তি বিনিময়, আধুনিক সেচব্যবস্থা, যৌথ গবেষণা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।পশ্চিম আফ্রিকায় বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালীকূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার হওয়া ভবিষ্যতে বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।একই সঙ্গে আফ্রিকা অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের কৌশলগত অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। বৈঠকের শেষে উভয় দেশ নিয়মিত যোগাযোগ, তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।