উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাপানি অর্থায়নে দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে এগোতে চায় বিএনপি সরকার। একই সঙ্গে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বও জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জাপানের ঋণে নির্মিতব্য এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রকল্প দুটির প্রস্তাবিত ব্যয় কমাতে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার (JICA) সঙ্গে দর-কষাকষি অব্যাহত থাকবে। এ উদ্দেশ্যে সাত সদস্যের একটি কারিগরি কমিটিও গঠন করেছে সরকার।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, সরকারের লক্ষ্য জাপানের অর্থায়নে দুটি মেট্রোরেল নির্মাণ সম্পন্ন করা। তবে ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে জাইকার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।মেট্রোরেল দুটি প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৯ সালে অনুমোদনের সময় এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, যা পরে বেড়ে প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। একইভাবে এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। অর্থাৎ দুই প্রকল্পেই ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এত বেশি ব্যয়ের কারণ পর্যালোচনা করতেই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই করবে এবং কোথায় ব্যয় কমানো সম্ভব, সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে।অন্যদিকে জাইকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন দুটি মেট্রোরেলের বড় অংশই ভূগর্ভস্থ হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেশি। পাশাপাশি নকশা পরিবর্তন, স্টেশনের দৈর্ঘ্য ও গভীরতা বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং শ্রম ব্যয় বেড়ে যাওয়াও ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।এদিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনার দায়িত্ব একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়া হবে। রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি অনুযায়ী, জাপানি অংশীদার পাবে ৭৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ। চলতি মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চলছে।এ ছাড়া জাপান সম্প্রতি উন্নয়ন ঋণের সুদের হার ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ করায় বাংলাদেশ সরকার তা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাপানের অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সুদের হার আগের অবস্থানে বা আরও নমনীয় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় যেন যৌক্তিক ও স্বচ্ছ থাকে, সে বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।