উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
বিশ্বকাপে গোলের মঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পে আর লিওনেল মেসির পেছনেই এখন দাঁড়িয়ে আছেন আর্লিং হালান্ড। আর তাঁর গোল করার গতি দেখে ফুটবলবিশ্বে এখন একটাই প্রশ্ন—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ডও কি ভেঙে দেবেন নরওয়ের এই গোলমেশিন?বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরিকোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন হালান্ড। প্যাট্রিক বার্গের নিখুঁত পাসে শুধু পা ছোঁয়ালেই গোল—সহজ সেই ফিনিশিংই নরওয়েকে তুলে দেয় পরের রাউন্ডে।এটি হয়তো হালান্ডের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সহজ গোলগুলোর একটি, কিন্তু গুরুত্বের দিক থেকে নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা। কারণ, এই গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে নরওয়ে।চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করে গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। তাঁর ওপরে আছেন শুধু লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।আন্তর্জাতিক ফুটবলে হালান্ডের গোলের পরিসংখ্যানও অবিশ্বাস্য। মাত্র ৫৩ ম্যাচে করেছেন ৬০ গোল, অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৭২ মিনিটে একটি করে গোল। তবে প্রথম ৫৫টি গোলের একটিও কোনো বড় টুর্নামেন্টে ছিল না। কারণ, এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে নরওয়ে, আর ২০০০ সালের পর এবারই প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক আসরে জায়গা পেয়েছে দলটি।বড় মঞ্চে এসেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন হালান্ড। গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল, সেনেগালের বিপক্ষেও জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকায় বহু প্রতীক্ষিত এমবাপ্পে-হালান্ড দ্বৈরথ দেখা হয়নি। তবে নকআউটে আবারও গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন তিনি।সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, নরওয়ের হয়ে সর্বশেষ ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছেন হালান্ড। এই সময়ে তাঁর গোলসংখ্যা ২৫।এখন আলোচনায় আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড। পর্তুগিজ মহাতারকা ২৩১ ম্যাচে করেছেন ১৪৫ গোল। অন্যদিকে হালান্ডের ঝুলিতে ৫৩ ম্যাচেই ৬০ গোল। বর্তমান গোল করার এই গতি ধরে রাখতে পারলে মাত্র ১২৮ ম্যাচেই রোনালদোর বর্তমান গোলসংখ্যা স্পর্শ করতে পারেন নরওয়েজিয়ান তারকা।নরওয়ে যদি নিয়মিত বড় টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেয় এবং হালান্ড ফিট থাকেন, তাহলে ৩২ বছর বয়সেই রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আর ক্যারিয়ার দীর্ঘ হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর গোলসংখ্যা কোথায় গিয়ে থামবে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের একটি।