উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
রাজপরিবারে নতুন এক অধ্যায় প্রিন্সেস ডায়ানা শুধু রাজপরিবারের সদস্য হিসেবেই নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। তিনি হাসপাতাল, এতিমখানা, এইডস আক্রান্ত রোগী এবং গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজপরিবারের প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বিশেষ করে এইডস রোগীদের সঙ্গে করমর্দন ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি সে সময়ের সামাজিক ভয় ও কুসংস্কার ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ল্যান্ডমাইন নিষিদ্ধকরণ প্রচারণায় তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়। ব্যক্তিগত জীবন ও বিচ্ছেদ ডায়ানা ও চার্লসের সংসারে দুই ছেলে—প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্স হ্যারি—জন্মগ্রহণ করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে নানা টানাপোড়েনের পর ১৯৯২ সালে তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা আসে এবং ১৯৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। মর্মান্তিক মৃত্যু ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান প্রিন্সেস ডায়ানা। তাঁর মৃত্যু বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে শোকাহত করে। লন্ডনে তাঁর শেষকৃত্যে লাখো মানুষ উপস্থিত হন এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্প্রচারিত হয়। আজও কেন স্মরণীয়? মৃত্যুর কয়েক দশক পরও প্রিন্সেস ডায়ানা মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং জনসেবার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়। তাঁর জীবন নিয়ে অসংখ্য বই, প্রামাণ্যচিত্র, চলচ্চিত্র এবং গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। রাজপরিবারের ভাবমূর্তিকে আরও মানবিক করে তুলতে তাঁর অবদান আজও আলোচিত। বিশ্ব ইতিহাসে ১ জুলাই তাই শুধু একটি জন্মদিন নয়; এটি এমন একজন ব্যক্তিত্বের আগমনের দিন, যিনি রাজকীয় পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন।