উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
১৯৩৪ সালের ৩০ জুন জার্মানির ইতিহাসে শুরু হয় এক রক্তাক্ত অধ্যায়, যা ইতিহাসে ‘নাইট অব দ্য লং নাইভস’ (Night of the Long Knives) নামে পরিচিত। এই অভিযানে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, সম্ভাব্য বিরোধী এবং নিজ দলের প্রভাবশালী কিছু নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করেন।তৎকালীন সময়ে নাৎসি পার্টির আধাসামরিক বাহিনী এসএ (Sturmabteilung বা SA)-এর প্রধান আর্নস্ট র্যোম ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছিলেন। এসএ সদস্যসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জার্মান সেনাবাহিনী এবং দেশের রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। একই সময়ে র্যোমের নেতৃত্বে এসএ-কে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা হিটলারের ক্ষমতার জন্যও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।এই পরিস্থিতিতে ১৯৩৪ সালের ৩০ জুন থেকে শুরু হওয়া অভিযানে হিটলারের নির্দেশে নাৎসি বাহিনীর এসএস (Schutzstaffel) এবং গোপন পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। আর্নস্ট র্যোমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়। একই অভিযানে সাবেক চ্যান্সেলর কুর্ট ফন শ্লাইখার, নাৎসি আন্দোলনের সমালোচক গ্রেগর স্ট্রাসারসহ আরও অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হন।এই অভিযান কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮৫ জন বলা হলেও ইতিহাসবিদদের অনেকেই মনে করেন প্রকৃত সংখ্যা কয়েক শত পর্যন্ত হতে পারে। অভিযানের সময় বহু মানুষকে কোনো ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই হত্যা করা হয়।পরবর্তীতে হিটলার এই হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেন। জার্মান সরকার পরে একটি আইনের মাধ্যমে এই অভিযানকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার ওপর নির্বাহী ক্ষমতার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়।‘নাইট অব দ্য লং নাইভস’-এর পর জার্মান সেনাবাহিনী হিটলারের প্রতি আরও অনুগত হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে এসএ-র প্রভাব কমে যায় এবং এসএস নাৎসি শাসনের অন্যতম শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়। ১৯৩৪ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট পল ফন হিন্ডেনবুর্গ মারা যাওয়ার পর হিটলার রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের ক্ষমতা একীভূত করে নিজেকে ফ্যুরার (Führer) ঘোষণা করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, জুনের এই শুদ্ধি অভিযান সেই ক্ষমতা সুসংহত করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি করে।আজও ‘নাইট অব দ্য লং নাইভস’ ইতিহাসে রাষ্ট্রক্ষমতা সুসংহত করতে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়। এটি দেখায়, কীভাবে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার একটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।