উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
কবরের আযাব থেকে মুক্তির সহজ আমল: প্রতিদিন যে সূরা তিলাওয়াতের পরামর্শ দিয়েছেন রাসুল (সা.)মৃত্যু মানুষের জীবনের অনিবার্য সত্য। দুনিয়ার জীবন শেষ হওয়ার পর আখিরাতের প্রথম ধাপ শুরু হয় কবরের জীবন দিয়ে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কবরেই মানুষের আমল অনুযায়ী শান্তি বা আযাবের সূচনা হয়।পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন— "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই, যদিও তোমরা সুউচ্চ ও সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো।" — সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৭৮ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিত দাজ্জালের ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর উম্মতকে কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন আমলের দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন।কবরের আযাব থেকে মুক্তির বিশেষ আমলহজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক সাহাবি অজান্তেই একটি কবরের ওপর তাঁবু স্থাপন করেছিলেন। পরে তিনি শুনতে পান, কবরের ভেতর থেকে একজন ব্যক্তি সম্পূর্ণ সূরা মুলক তিলাওয়াত করছেন।ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানানো হলে তিনি বলেন— "এটি প্রতিরোধক, এটি মুক্তিদায়ক। এটি কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেয়।" — সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯০ সূরা মুলকের বিশেষ ফজিলতঅন্য এক হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— "কুরআনের একটি ৩০ আয়াতবিশিষ্ট সূরা রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করিয়ে দেবে। সেই সূরাটি হলো সূরা মুলক।" — সুনানে তিরমিজি: ২৮৯১, সুনানে আবু দাউদ: ১৪০০ ইসলামী স্কলারদের মতে, প্রতিদিন রাতে সূরা মুলক তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। এটি কবরের আযাব থেকে মুক্তির আশা জাগায় এবং আখিরাতে সফলতার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।মুসলমানদের জন্য করণীয় দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন রাতে কয়েক মিনিট সময় বের করে সূরা মুলক তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, তাওবা-ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়াই একজন মুমিনের দায়িত্ব।