উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
আজ ২২ জুন। বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। ১০৩৭ সালের এই দিনে ৫৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত মহান মুসলিম মনীষী ইবনে সিনা।পূর্ণ নাম আবু আলী হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে সিনা। পাশ্চাত্যে তিনি ‘অ্যাভিসেনা’ নামে পরিচিত হলেও মুসলিম বিশ্বে ‘ইবনে সিনা’ নামেই অধিক সমাদৃত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন খ্যাতিমান দার্শনিক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গবেষক।আনুমানিক ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান উজবেকিস্তানের বোখারার নিকটবর্তী আফশানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অল্প বয়সেই অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।মাত্র ২১ বছর বয়সে বোখারার শাসক নূহ ইবনে মনসুরের জটিল রোগ সফলভাবে চিকিৎসা করে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। এর পুরস্কার হিসেবে রাজকীয় গ্রন্থাগারে প্রবেশাধিকার পান, যা তাঁর জ্ঞানচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে।ইবনে সিনা প্রায় ৪৫০টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ এবং ‘কিতাবুশ শিফা’ মধ্যযুগীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।‘আল-কানুন ফিত-তিব’ বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পাঁচ খণ্ডে রচিত এই বিশাল চিকিৎসা বিশ্বকোষে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পদ্ধতি, ওষুধবিজ্ঞান এবং মানবদেহ সম্পর্কিত বিস্তৃত আলোচনা স্থান পেয়েছে।হৃদরোগের সঙ্গে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার সম্পর্ক তিনিই প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরেন। এছাড়া সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কোয়ারেন্টাইনের ধারণা এবং পানি ও মাটির মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর বিষয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেছিলেন।জ্ঞান-বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ইবনে সিনাকে মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরানের হামাদানে অবস্থিত তাঁর সমাধি আজও জ্ঞান ও প্রজ্ঞার এক উজ্জ্বল স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মৃত্যুর প্রায় এক হাজার বছর পরও চিকিৎসাবিজ্ঞান, দর্শন ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশ্বব্যাপী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।