উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, অশালীন আচরণ এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র অভিযোগের তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, শুরুতে শিক্ষক স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তার স্ক্রিনশট ও অন্যান্য প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি সহ্য করার পর তিনি সহপাঠীদের বিষয়টি জানান এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার চান। তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয় এবং এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন।একই ডিসিপ্লিনের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে মৌখিক, মানসিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য ও কিছু প্রমাণও তদন্তের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যাওয়ার পর ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। তার দাবি, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ঈর্ষা থেকেই একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোছা. তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খাঁন জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে ড. মো. ইয়াসিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।