উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে বুধবার মাঠে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া আর্জেন্টিনা আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ কোচ লিওনেল স্কালোনি। অন্যদিকে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ অঘটন ঘটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই সবকিছু নির্ধারণ করে না। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে হার দিয়েও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল আর্জেন্টিনা, সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।"গত বিশ্বকাপ থেকে আমরা শিখেছি যে প্রথম ম্যাচেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। তবে বিশ্বকাপে কোনো দলকেই সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আলজেরিয়াকে নিয়েও আমরা যথেষ্ট সতর্ক," বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দল প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে পারেনি। স্পেন, উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামের মতো দলগুলো ড্র করেছে নিজেদের ম্যাচে। এসব ফলাফলও আর্জেন্টিনাকে আরও সতর্ক করে তুলেছে।বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। এখন পর্যন্ত শুধু ইতালি (১৯৩৮) ও ব্রাজিল (১৯৬২) টানা দুটি বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে। সেই তালিকায় নাম লেখানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা।স্কালোনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী। দল ভালো অবস্থায় আছে এবং প্রস্তুতিও দারুণ হয়েছে। নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।”বিশ্বকাপের এই আসরে বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসির দিকে। আগামী সপ্তাহে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই তারকা আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলতে নামবেন। একই সঙ্গে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তিও গড়বেন তিনি।সম্প্রতি আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ২০ মিনিট খেলেও ম্যাচসেরা হওয়া মেসির ফিটনেস ও ছন্দ নিয়ে সন্তুষ্ট স্কালোনি।তিনি বলেন, “শুধু আর্জেন্টিনার মানুষ নয়, পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা মেসিকে খেলতে দেখতে চায়। তার প্রভাব সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।”তবে আর্জেন্টিনা শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকোকে নিয়ে। পায়ের পেশির চোটে তার খেলা অনিশ্চিত। যদিও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ হাতের আঙুলে চিড় থাকা সত্ত্বেও ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত।অন্যদিকে আট বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আলজেরিয়া নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন। রক্ষণভাগে চোটের কারণে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও দলটির প্রধান শক্তি দ্রুতগতির আক্রমণভাগ।বিশেষ করে অভিজ্ঞ উইঙ্গার রিয়াদ মাহরেজের দিকে নজর থাকবে সবার। বয়স ৩৫ ছুঁলেও তার সৃজনশীলতা ও নিখুঁত পাসিং এখনও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেন, “আমরা অবশ্যই এই ম্যাচে ফেভারিট নই। তবে বিশ্বকাপে অনেক অঘটনই ঘটেছে। আমরাও তেমন একটি ফল এনে দেওয়ার চেষ্টা করব।”ইতিহাসও কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপ জয়ের পরের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কখনো জয় পায়নি আলবিসেলেস্তেরা। ১৯৮২ সালে বেলজিয়ামের কাছে এবং ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল তারা।সেই ইতিহাস বদলে জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে চায় মেসিরা। তবে আলজেরিয়ার লক্ষ্যও স্পষ্ট—বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে চমক দেখিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া।