উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
নওগাঁর বদলগাছীতে আমের ভরা মৌসুমে চাষি, ব্যবসায়ী ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে কুরিয়ার সেবার ধীরগতি। অভিযোগ উঠেছে, বুকিং করার পরও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিখ্যাত ‘নাক ফজলি’ আম। ফলে ক্রেতার হাতে পৌঁছানোর আগেই পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান এই কৃষিপণ্য।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বদলগাছী ডাকবাংলো মোড় এলাকায় অবস্থিত সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা থেকে পাঠানো আম নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বদলগাছীর আমের সুনাম।গত শনিবার ও রোববার কুরিয়ার অফিসের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। অনেকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায়ও জড়ান।বদলগাছী সদরের বাসিন্দা সাজ্জাদুল ইসলাম পলাশ জানান, গত ৭ জুন ঢাকার উত্তরায় থাকা আত্মীয়ের কাছে দুই মণ নাক ফজলি আম পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আট দিন পার হলেও আমগুলো গন্তব্যে পৌঁছায়নি।তিনি বলেন, “প্রতিদিন কুরিয়ার অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সঠিক তথ্য পাইনি। এতদিনে আমগুলোর অবস্থা কী হয়েছে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।”অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বদলগাছী ম্যাংগো সেল বাজার’-এর উদ্যোক্তা এস এম মোস্তাকিম বলেন, কুরিয়ারের ধীরগতির কারণে তিনি নিয়মিত ক্রেতা হারাতে বসেছেন।তার ভাষায়, “ক্রেতারা সময়মতো আম পাচ্ছেন না। কেউ কেউ পচা আম পেয়েছেন। এতে আমার ব্যবসার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা অমিত কুমার জানান, তিনি ৪০ কেজি আম অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু পাঁচ দিন পর আম হাতে পেয়ে দেখেন অধিকাংশই কালো হয়ে পচে গেছে।অন্যদিকে কারওয়ান বাজারের সরদার মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, প্রায় ১০ দিন আগে পাঠানো ৫২ ক্যারেট আম নির্ধারিত ঠিকানার পরিবর্তে অন্য শাখায় চলে যায়। ফলে অর্ধেকের বেশি আম নষ্ট হয়ে যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু আম নয়, অন্যান্য পার্সেলও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে পৌঁছাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ডেলিভারির কথা বলা হলেও বাস্তবে ৪ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে।অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বদলগাছী শাখার প্রোপ্রাইটর রায়হান হোসেন বলেন, “কিছু সমস্যার কারণে বিলম্ব হয়েছে। যাদের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, “সুন্দরবন কুরিয়ারের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আমি নিজে শাখাটি পরিদর্শন করেছি এবং প্রাথমিকভাবে সতর্ক করেছি।”তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে জিআই পণ্য নাক ফজলি আম পরিবহণ ও সংরক্ষণে গাফিলতি পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং বদলগাছীর বিখ্যাত নাক ফজলি আমের বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।