উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাবিক। ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত নাবিকদের দাবি, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ভারতীয় ক্রু থাকা জাহাজগুলো বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকরা নিজেদের অনিরাপদ মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে তারা দ্রুত সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে নাবিকদের আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং হামলার আশঙ্কায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ভিডিওতে একজন নাবিককে বলতে শোনা যায়, “পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ভারতীয় নাবিক থাকা জাহাজগুলোই বেশি হামলার শিকার হচ্ছে।”আরেক নাবিক জানান, তারা সামরিক বাহিনীর সদস্য নন; চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহন খাতে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্যদের সংঘাতে কেন সাধারণ নাবিকদের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।এক নাবিকের দাবি, সম্প্রতি যে জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন, তিনি আগে সেই জাহাজে কর্মরত ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, ওমান উপকূলের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে জাহাজটির ক্যাপ্টেন তাকে জানিয়েছেন।নাবিকদের আরেকটি অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩ লাখ ভারতীয় নাবিক কাজ করলেও তাদের নিরাপত্তা ও দুর্দশার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।এর আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘মেরিভেক্স’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে কর্মরত ভারতীয় নাবিকরা জরুরি সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান। তাদের দাবি, ওমান উপকূলে হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই জাহাজের নাবিকরা “দয়া করে সাহায্য করুন” বলে জরুরি আবেদন জানিয়েছিলেন। এছাড়া ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী একাধিক তেলবাহী জাহাজ হামলার মুখে পড়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।এসব ঘটনার একটিতে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। অন্য একটি হামলায় ২৪ ভারতীয় নাবিক বহনকারী একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সব আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।আল জাজিরার উদ্ধৃত এক বার্তায় একজন নাবিক জানান, হামলার ফলে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং নিচের অংশে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রুই ভারতীয় এবং তাদের দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নাবিকদের এসব অভিযোগ ও উদ্বেগ নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।