উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ সফরকারী শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আগের দুই ম্যাচের তুলনায় শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও, সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা। তাওহিদ হৃদয়ের ৮৩ রানের অনবদ্য ইনিংসের পাশাপাশি লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেনের দায়িত্বশীল জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ।আজ রবিবার (১৪ জুন) টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের চতুর্থ বলেই দলীয় মাত্র ৩ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। হাভিয়ের বার্টলেটের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪ বলে মাত্র ২ রান করেন তিনি।শুরুর ধাক্কা ও তাওহিদ হৃদয়ের প্রতিরোধদ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ৫০ বলে ২৪ রান করা শান্তকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন ম্যাট রেনশো। এরপর থিতু হতে পারেননি তানজিদ তামিমও। রেনশোর দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে তিনি ২০ বলে খেলেন ১৯ রানের ইনিংস।৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন দল ব্যাকফুটে যাওয়ার শঙ্কায়, তখনই ক্রিজে এসে ম্যাচের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা দলকে এনে দেন মূল্যবান ৯২ রান। তবে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে ব্যাটিং করার সময় হঠাৎ পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিটন দাস।হৃদয়-মোসাদ্দেক জুটি এবং মিরপুরে লিটনের ঐতিহাসিক ফিফটিলিটন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে ক্রিজে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন। পঞ্চম উইকেটে হৃদয় ও মোসাদ্দেক মিলে অজি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ৯৩ রানের আরেকটি মারমুখী জুটি গড়েন। সেঞ্চুরির পথেই এগোচ্ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত বেন দারউইশের বলে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৮৮ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৮৩ রানের এক দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন হৃদয়।হৃদয় বিদায় নেওয়ার পর শেখ মেহেদী হাসান মাঠে এসে মাত্র ৩ রানে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর চোট কাটিয়ে আবারও ক্রিজে ফিরে আসেন ওপেনার লিটন দাস। মাঠে ফিরেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। নিজের ১১ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথম মিরপুরের মাটিতে প্রথম ফিফটির দেখা পান লিটন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৮ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে, অপরপ্রান্তে ঝড়ো ব্যাটিং করে ৫১ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন।অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ম্যাট রেনশো ২টি এবং হাভিয়ের বার্টলেট ও বেন দারউইশ ১টি করে উইকেট নেন। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশের বোলাররা এই ২৭৪ রান ডিফেন্ড করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।