উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করলে তিনি এ নির্দেশনা দেন।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ডিআইএ ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। প্রস্তাবনায় মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের মূল শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে সেখানে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শাখার দায়িত্বে শিক্ষা ক্যাডারের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম তদারকির জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা স্থগিত করার প্রস্তাবও রয়েছে।ডিআইএর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন খাতে ৬০০ কোটিরও বেশি টাকা লোপাট করা হয়েছে। বর্তমানে কর্মরত ৬৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জনের নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। অনেকের ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, শিক্ষক নিবন্ধন সনদ, নিয়োগ পরীক্ষার টেবুলেশন শিট, নিয়োগ কমিটির অনুমোদন কিংবা যোগদানের প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ছয়টি ক্যাম্পাসে মোট ১৪টি শিফট চালু থাকলেও এর মধ্যে মাত্র চারটি অনুমোদিত। বাকি ১০টি শিফট অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে।তদন্তে দেখা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও একাডেমিক উন্নয়ন ভাতা ও নগর ভাতার নামে প্রায় ৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করে প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।এ ছাড়া ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বিশেষ ক্লাস ও পরিচালনা কমিটির সম্মানীর ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, বিশেষ ক্লাসের সম্মানী বাবদ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং পরিচালনা কমিটির সম্মানীর নামে প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে নির্মাণ, মেরামত ও উন্নয়ন খাতে প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অধিকাংশ ব্যয়ের ভাউচার, অনুমোদন ও রেজল্যুশনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব ব্যয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।তদন্তে আরও বলা হয়েছে, নিজস্ব প্রিন্টিং প্রেস থাকা সত্ত্বেও মুদ্রণ খাতে প্রায় ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা আত্মসাতের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায় করে প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বর্তমানে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে প্রায় ৩০ হাজার ৫৯৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।