উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া একটি গাছকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কুসংস্কার ও মাজার নির্মাণের অপচেষ্টা ঠেকাতে গাছটি অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি কেটে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, গাছটিকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছিল এবং সেখানে মাজারসদৃশ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ঝড়ে মুন্সীবাড়ির পুকুরপাড়ের গাছটি উপড়ে পড়ে। পরবর্তীতে গাছটির ডালপালা ও ওপরের অংশ কেটে ফেলা হলেও প্রায় এক সপ্তাহ আগে অবশিষ্ট প্রায় ১৫ ফুট লম্বা কাণ্ডটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।গাছটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করতে শুরু করে। একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তি গাছের গোড়ায় লাল কাপড় বেঁধে মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে মানত করতে শুরু করেন। পাশাপাশি স্থানটিকে মাজারের আদলে রূপ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং গাছের ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন, শিকড়ের টান, মাটির স্থিতিস্থাপকতা এবং অভ্যন্তরীণ রসচাপের কারণে এমনটি ঘটতে পারে।বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি অপসারণ করা হয়।আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। মালিকের সম্মতি নিয়েই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এটি অপসারণ করা হয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থ স্থানীয় কোনো মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে বলেও মালিক জানিয়েছেন।স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপে এলাকায় কুসংস্কার বিস্তার এবং ভণ্ড মাজার গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।