উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীসহ বড় বড় পশুর হাটে বিপুলসংখ্যক গরু আনা হলেও প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় শেষ মুহূর্তে পশুর দাম কমে যায়। ফলে অনেক খামারি, কৃষক ও ব্যবসায়ী লোকসান গুনে কম দামে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। আবার বিপুলসংখ্যক পশু অবিক্রীত থাকায় সেগুলো নিয়ে ফিরতে হয়েছে খামারে।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। এর মধ্যে ১ কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ পশু অবিক্রীত থেকে গেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কোরবানির সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। এছাড়া বড় গরুর চাহিদা কম থাকা এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু প্রবেশের অভিযোগও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টানা বৃষ্টি ও কাদাময় পরিবেশও পশু বিক্রিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।বিশেষ করে বড় গরুর খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন হাটে বড় গরু নিয়ে আসা অনেকেরই ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পশু অবিক্রীত থেকে গেছে। কেউ কেউ প্রতি গরুতে এক লাখ টাকারও বেশি ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তিতে ছিলেন ক্রেতারা। অনেকের মতে, ঈদের আগের দিনের তুলনায় গরুর দাম প্রতি লাখে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে।ঈদের দিন সকালে গাবতলী হাটে দেখা গেছে, অবিক্রীত গরু ট্রাকে করে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ আবার পরিবহনের অভাবে দীর্ঘ সময় হাটেই অপেক্ষা করেছেন।মানিকগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানান, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে বড় গরুর বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা যায়।খামারিরা বলছেন, পশু নিয়ে ঢাকায় আসা, শ্রমিক, খাদ্য, পরিবহন ও হাটের খরচ মিলিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। এখন অবিক্রীত গরু ফের খামারে নেওয়ায় খাদ্য ও পরিচর্যার খরচ আরও বাড়বে। অনেকেই ব্যাংকঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিলয় হোসেন বলেন, মানুষের আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় কোরবানির সংখ্যা কমেছে এবং বড় গরুর বাজারে ধস নেমেছে। তার মতে, প্রান্তিক খামারিরা তুলনামূলক কম খরচে ছোট গরু পালন করতে পারলেও বড় খামারগুলোর উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় তারা এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, কোরবানি হওয়া পশুর চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রস্তুত হয়নি। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অবিক্রীত পশুর বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে কিছু উদ্বৃত্ত পশু থাকা স্বাভাবিক এবং তা সারা বছর মাংসের সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।